পাতা

অফিস সম্পর্কিত

ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরন বাংলাদেশের কৃষি, কৃষক ও কৃষি বিজ্ঞানীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। অপরিকল্পিত আবাসন, শিল্পায়ন, নগরায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষিজ জমি দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের (তাপমাত্রাবৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের অসমতা, ঋতুর পরিবর্তন, সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধি, আকষ্মিক বন্যা ইত্যাদি) সর্বপ্রথম শিকার বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল (সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, পিরোজপুর এবং ভোলা)। এই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে লবণাক্ততা বৃদ্ধি প্রধান অমত্মরায়। ঝড়, সাইক্লোন, জলচ্ছাস, আকষ্মিক বন্যা, বর্ধিষ্ণু তাপমাত্রা, অসম বৃষ্টিপাত, তুলনামূলক কম স্থায়ীত্বের শীতকাল, সাদু পানির অভাব, খাল ও নদীর নাব্যতা হ্রাস, ভঙ্গুর যাতায়াত ব্যবস্থা এবং অনুর্বর মাটি এ অঞ্চলের মানুষের প্রধান প্রধান অভিশাপ।এ ছাড়া অধিক লাভের আশায় অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষের ফলে এ অঞ্চলের বিশেষ করে সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় ৩০ ভাগ জমি ৬-৮ মাস জলাবদ্ধ থাকার কারনে কৃষি কাজ দারম্ননভাবে ব্যহত হচ্ছে। শুধু সাতক্ষীরা জেলায় ১২৭% হারে কৃষিজ জমি প্রতি বছর লবণাক্ত জমিতে পরিণত হচ্ছে যেখানে সামান্য কিছু জমিতে রোপাআমন ও বসতবাড়িতে সবজি চাষ হলেও আমন পরবর্তী কালে এই এলাকায় প্রায় ১.০৮ মিলিয়ন হেক্টর জমি পতিত পড়ে থাকে। এই এলাকার বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ত জমি উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কিভাবে চাষাবাদের আওতায় আনা যায় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০০০ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতায় বেনারপোতা, সাতক্ষীরায় একটি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। বিএআরআই (বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট) দেশের বৃহত্তম বহুবিধ ফসল গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান দানাশস্য, কন্দাল, ডাল, তৈলবীজ, সবজি, ফল, মসলা, ফুল ইত্যাদির উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন বিষয়ে গবেষণা করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি মৃত্তিকা এবং শস্য ব্যবস্থাপনা, রোগ বালাই এবং পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, পানি এবং সেচ ব্যবস্থাপনা, কৃষি যন্ত্রপাতির উন্নয়ন, খামার  পদ্ধতির উন্নয়ন, শস্য সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং আর্থ সামাজিক সংশ্লিষ্ট উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন এবং পরিমাণ নির্ধারণ বিষয়ে গবেষণা করে থাকে।কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বারি, বেনারপোতা, সাতক্ষীরা কর্তৃক উদ্ভাবিত উপকূলীয় এলাকার উপযোগী কৃষি প্রযুক্তি সমূহের সচিত্র বর্নণা নিমেণ প্রদান করা হল। এই প্রযুক্তি সমূহ সাতক্ষীরাসহ অন্যান্য উপকূলীয় জেলা সমূহে কৃষক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা গেলে উপকূলীয় কৃষি উৎপাদনে ও কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। 

ছবি



Share with :

Facebook Twitter